দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি খাল মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল এবং সেখানে পাকা স্থাপনা, বসতবাড়ি ও বাগান গড়ে তোলার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নকশা ও সার্ভেয়ার নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম রেজা সজিব। তদন্ত শেষে খালের সীমানা পরিমাপ করে নির্ধারণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের জে এল নম্বর-১, সাতুরিয়া মৌজার বি.এস. জরিপ ও রেকর্ডীয় ৩৮১৩ ও ৩৮৩২ নম্বর দাগের সরকারি খালের পশ্চিমাংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ভরাট করা ওই অংশে পাকা দালান নির্মাণের পাশাপাশি গাছপালা লাগিয়ে বাগান ও বসতবাড়ি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে গত ২৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সাতুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন খন্দকার।
লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, খালের পশ্চিমাংশ স্থানীয় মো. মোস্তফা খলিফার বাড়ির সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। খলিফা বাড়ির নুরাণী মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে থাকা খালের ওই অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় খালের যে অংশ দিয়ে জোয়ার-ভাটার পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করত, সেটি ভরাট করে ফেলায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন নিয়ে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি, সরকারি খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হলে জোয়ার-ভাটার পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। এতে কৃষিজমি থেকে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, চাষাবাদে সুবিধা হবে এবং কৃষিনির্ভর স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবেন।
সরেজমিন তদন্ত শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। খাল ভরাটের কারণে বর্তমানে এর স্বাভাবিক আকৃতিও নেই। আপাতত পরিমাপ করে খালের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএম